শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
শিশু ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চরম ব্যর্থতার দায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটাকে ৯৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা) অর্থদণ্ড দিয়েছে। সম্প্রতি নিউ মেক্সিকো জেলা আদালতের বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড নতুন করে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানার নির্দেশ দিলে পূর্বের দণ্ডসহ মোট জরিমানার পরিমাণ এই রেকর্ড অঙ্কে গিয়ে পৌঁছে। শিশু সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের ইতিহাসে এটিই মেটার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আর্থিক জরিমানা।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড উল্লেখ করেন, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোর কাঠামোগত নকশা ও অ্যালগরিদমের কারণেই শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা মানসিক ক্ষতি, যৌন শোষণ এবং নানা ধরনের অনলাইন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিষয়টিকে পরিবেশ দূষণকারী কারখানার সাথে তুলনা করে আদালত মন্তব্য করে যে, মেটার তৈরি সামাজিক মাধ্যম সমাজের জন্য একটি ‘জনউপদ্রব’ (Public Nuisance) হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আরোপিত এই বিশাল অঙ্কের জরিমানার একটি বড় অংশ সরাসরি ভুক্তভোগী শিশুদের কল্যাণে নির্মিত বিশেষ তহবিলে জমা করা হবে। পরবর্তীতে এই তহবিল ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা, পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের কাজে ব্যয় হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে স্পষ্ট বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির ক্ষতিকর সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদম অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শিকারি ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্টের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মেটা শিশুদের নিরাপত্তায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে আদালত নিশ্চিত হয়েছে।
জরিমানার পাশাপাশি মেটার জন্য বেশ কিছু কঠোর ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনাও জারি করেছেন আদালত:
* ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের কাছে প্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি বার্তা (Direct Message) পাঠানোর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা।
* রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এবং শিশুদের স্কুল চলাকালীন সব ধরনের পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা।
* অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্টে পোস্টের লাইক সংখ্যা গোপন রাখা।
* দৈনিক ব্যবহারের ওপর নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণসহ সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
তবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি মেটা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের অভিভাবক প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তায় ইতিবাচক ও কার্যকর ব্যবস্থা ইতোমধ্যে চালু করেছে। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিউ মেক্সিকোর এই ঐতিহাসিক রায়ের পরেই আগামী সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে শিশুদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত আরও একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মেটা। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব মামলার রায় বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিশু সুরক্ষা নীতিতে একটি বড় ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে বাধ্য করবে।
(তথ্যসূত্র: বিবিসি)